আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক নীতির পরিপন্থী ও সম্পূর্ণ অন্যায় বলে আখ্যা দেন।
গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, এসব হামলার জন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, প্রকৃত বাস্তবতা তার বিপরীত। তিনি দাবি করেন, ‘তারা দাবি করে যে আমরাই আসল সন্ত্রাসী। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারাই আসল সন্ত্রাসী।’
তিনি আরও বলেন, বেসামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে লক্ষ্য করে যে ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক আইন বা মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি যুদ্ধাপরাধ ও আগ্রাসনমূলক নীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ইরানি প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংঘাতকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থানকে আরও কঠোরভাবে তুলে ধরার একটি কূটনৈতিক বার্তা। একই সঙ্গে এটি পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির বিরুদ্ধে ইরানের দীর্ঘদিনের অভিযোগেরই পুনরাবৃত্তি।
এর আগে বিভিন্ন সময় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করার অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ করে থাকে।
বর্তমান বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানি প্রেসিডেন্ট আবারও সেই পুরোনো রাজনৈতিক বয়ানকে সামনে আনলেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।