ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

অবরোধ ভেঙে হরমুজে ঢুকল নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সুপারট্যাংকার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৪৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে আরেকটি সুপারট্যাংকার। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম শিপ ট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই জাহাজটি নিরাপত্তা বিধিনিষেধ অমান্য করে উপসাগরে ঢুকে পড়ে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও শিপিং বাজারে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি জানায়, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজই অবরোধ ভেদ করতে পারেনি।

তবে এর মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত একটি ইরানি সুপারট্যাংকার অবরোধ অমান্য করে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে ইরানের ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। তবে ট্যাংকারটির নাম বা বিস্তারিত রুট সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এলএসইজি এবং কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার আরএইচএন নামের একটি বিশালাকার অপরিশোধিত তেলবাহী খালি ট্যাংকার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম এই ভিএলসিসি জাহাজটির গন্তব্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এর একদিন আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত অ্যালিসিয়া নামের আরেকটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। কেপলারের তথ্য বলছে, জাহাজটি বর্তমানে ইরাকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দুই জাহাজই ইরানি তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অবরোধের চাপে থাকা আরেকটি ট্যাংকার রিচ স্ট্যারি প্রথমে উপসাগর থেকে বেরিয়ে গেলেও পরদিন আবার ফিরে আসে, যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইরানি তেলের পরিবহন ব্যবস্থা কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের জ্বালানি খাতে আংশিক শিথিলতা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার নতুন করে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে, যাতে ইরানি তেলের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ওপর দ্বিতীয় দফার চাপ সৃষ্টি করা যায়।

তেহরানের একটি সূত্র দাবি করেছে, আলোচনার অংশ হিসেবে ওমানি উপকূল ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অবরোধ ইরানের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করলেও দেশটি দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন সাময়িকভাবে ধরে রাখতে সক্ষম। অনশোর স্টোরেজ সুবিধার কারণে তারা আপাতত উৎপাদন বন্ধ না করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের গড় দৈনিক তেল রপ্তানি ছিল ১৬ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল। মার্চে তা বেড়ে ১৮ দশমিক ৪ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায় এবং চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত গড় রপ্তানি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ১ লাখ ব্যারেল।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।



এ সম্পর্কিত আরো খবর