বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলেও ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বহাল রাখার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আংশিক স্বস্তি ফিরলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনো কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে ট্রাম্প এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন ও চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।
ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা ইতোমধ্যে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে। বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সমঝোতা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, আলোচনার প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যেতে পারে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা দেন, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষ করে জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় পুরো পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার পথ কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবরোধ প্রত্যাহার না হলে উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। এর ফলে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকায় বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে ইরানের ওপর অবরোধ বহাল থাকায় কূটনৈতিক অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।