ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সব দাবি ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের একাধিক বক্তব্যের কড়া জবাব দেন গালিবাফ। তিনি বলেন, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যে দাবি করেছেন, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই এবং বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, কোনো কূটনৈতিক সমাধান বা যুদ্ধক্ষেত্রেও তা কোনো ফল বয়ে আনে না।
গালিবাফ সতর্ক করে আরও বলেন, ইরানের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, হরমুজ প্রণালির নিয়মকানুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারণ করা যায় না; এটি একটি সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়।
এর আগে শুক্রবার দিনের শুরুতে ইরান ইস্যুতে একাধিক মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বড় কোনো মতপার্থক্য নেই এবং দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান প্রসঙ্গে একাধিক ইতিবাচক বার্তা দেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে সম্মত হয়েছে এবং এটি আর কখনো বন্ধ করা হবে না। তিনি আরও বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ না দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন হয়।
তিনি ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, আগামী রোববার আলোচনায় অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদী এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে রাজি হয়েছে।
ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরান সমুদ্র মাইন সরিয়ে ফেলেছে বা সরানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে।
তবে ইরান সরাসরি ট্রাম্পের এই দাবিগুলো নাকচ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং এটি কোনোভাবেই দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হবে না। তিনি এটিকে ইরানের সার্বভৌম অধিকারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে ইরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের অনুমতি প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে একজন ইরানি কর্মকর্তা জানান, মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের অনুমতি পাবে, তবে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হবে।