ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

রাশিয়া থেকে তেল কেনার সুযোগ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১:৪০ পিএম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রুশ তেল পরিবহনকারী জাহাজ থেকে জ্বালানি কেনার সুযোগ আরও এক মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নথিতে জানায়, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত যেসব জাহাজে রুশ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য লোড করা হয়েছে, সেগুলো আগামী ১৬ মে পর্যন্ত ক্রয় করা যাবে। এর আগে ১১ এপ্রিল ঘোষিত ৩০ দিনের একটি ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তটি মূলত সেই আগের শিথিলতারই বর্ধিত অংশ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় ওয়াশিংটন আর কোনো নতুন ছাড় দেবে না। তবে পরবর্তীতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থির হয়ে পড়ায় এবং সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় প্রশাসন অবস্থান পরিবর্তন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ঘাটতি এড়াতেই যুক্তরাষ্ট্র এই সাময়িক ছাড় দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেলের দামে।

রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানিয়েছেন, এই প্রথম দফার ছাড়ের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে প্রবেশ করবে। এটি বৈশ্বিক দৈনিক চাহিদার প্রায় সমান, যা বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের পরও বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। কারণ, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলছে। এই দ্বৈত পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সাময়িক সিদ্ধান্ত কতদিন বজায় থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই ছাড় আরও বাড়তে পারে, আবার রাজনৈতিক সমঝোতা হলে নিষেধাজ্ঞা কঠোরও হতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর