চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই বৈঠক কেবল গুরুত্বপূর্ণই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি ‘বিশেষ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই বৈঠক থেকে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হতে পারে। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে নতুন সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে।
অন্য একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ‘খুবই সন্তুষ্ট’ হয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এই প্রণালি ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলমান এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে রুশ তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্তও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠককে অনেকেই দুই পরাশক্তির সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই বৈঠক সফল হয়, তবে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাস্তব অগ্রগতি কতটা হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ইরানকে ঘিরে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, তার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে এই বৈঠকের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে নজর রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের।