দীর্ঘ ৪৭ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি সফলভাবে পার হলো মাল্টার পতাকাবাহী বিশাল প্রমোদতরি ‘সেলেস্টিয়াল ডিসকভারি’। বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল নৌপথগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির ছিল। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় জাহাজটি নিরাপদে তার যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।
জানা গেছে, গত মার্চের শুরু থেকে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে নোঙর করা ছিল। পারস্য উপসাগরজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ, সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সেটি দীর্ঘ সময় বন্দরে আটকে থাকে। ফলে নির্ধারিত যাত্রাপথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়নি। টানা ৪৭ দিনের অপেক্ষার পর অবশেষে শুক্রবার জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে রওনা দেয়।
মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে প্রমোদতরিটি কোনো যাত্রী ছাড়াই যাত্রা করেছে। এতে কেবল ক্রু সদস্যরা ছিলেন। দুবাই থেকে রওনা হয়ে এটি ওমানের মাস্কাট বন্দরের দিকে যাচ্ছে। নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করে নৌযানটি ধীরে ধীরে সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফল যাত্রা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে আস্থা ফেরানোর একটি ইতিবাচক সংকেত। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেলেস্টিয়াল ডিসকভারির এই অতিক্রম প্রমাণ করে যে, পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। তবে তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। বীমা ও শিপিং কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়নেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মেরিন ট্রাফিকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাহাজটি শনিবার বিকেলের মধ্যে ওমানের মাস্কাট বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর এটি পরবর্তী রুট অনুযায়ী যাত্রা অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধরনের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
তবে পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কেটে না যাওয়া পর্যন্ত বড় আকারের প্রমোদতরি নিয়ে নিয়মিত হরমুজ প্রণালি পারাপার শুরু হবে না। এর জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবুও এই যাত্রাকে তারা একটি ‘পাইলট রিকভারি মুভ’ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।