মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি খোলা বা স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার বিষয়টি নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ‘খুবই খুশি’। তিনি এ মন্তব্য করেন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া বা দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নিজের পোস্টে তিনি আরও জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে তার আসন্ন বৈঠক হবে ‘বিশেষ এবং সম্ভাব্যভাবে ঐতিহাসিক’। ট্রাম্পের দাবি, এই বৈঠক থেকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আসতে পারে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বহু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমাধান বের হতে পারে।
ট্রাম্প আরও লেখেন, “প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছি। আমরা অনেক কিছু অর্জন করব।” তার এই মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতির শর্তে এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সামরিক জাহাজ বা বাহন এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাবে না।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনো কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ে-নিক বলেন, এই জলপথ ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত নিয়ম মানতে হবে এবং তা ইরানের অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এখানে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।