ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

কয়লা কেলেঙ্কারিতে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১:৫৩ পিএম

কয়লা আমদানিকে ঘিরে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগের পর পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালা। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানি করা কয়লার গুণগত মান ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটিতে বিতর্ক চলছিল, যার জেরে শেষ পর্যন্ত সরকারে বড় ধরনের এই পরিবর্তন এলো।

রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ করে দিতেই জ্বালানি মন্ত্রী স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় দেশটির একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিম্নমানের কয়লা সরবরাহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার মান ঠিক ছিল না, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহেও প্রভাব পড়ে। বিষয়টি সামনে আসার পর জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয় এবং সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং সরাসরি দুর্নীতির কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সাংবাদিকদের বলেন, সরকার কোনো কিছুই গোপন করছে না এবং তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডির বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তা পাস হয়নি। তবে রাজনৈতিক চাপ এবং জনঅসন্তোষ ক্রমেই বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমান সরকারের সময়ে তিনিই প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী, যিনি দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে পদ ছাড়লেন।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ইতোমধ্যে ২০০৯ সাল থেকে কয়লা আমদানির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে, নিম্নমানের কয়লার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ আসে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। বছরে দেশটির প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ঘাটতি পূরণে জরুরি ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানি এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়াতে হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে থাকা শ্রীলঙ্কা এখনো জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এর আগে জ্বালানি সংকটের সময় দেশটিতে রেশনিং ব্যবস্থা এবং সরকারি ছুটি পর্যন্ত ঘোষণা করতে হয়েছিল, যা আবারও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সামনে এনেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর