মধ্যপ্রাচ্যে আবার পাঠানো হলো বিশ্বের বৃহত্তম রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’, যাচ্ছে আরও একটি
মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় আবার প্রবেশ করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একজন কর্মকর্তা জানান, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘদিন অবস্থানের পর রণতরিটি সুয়েজ খাল অতিক্রম করে এখন লোহিত সাগরে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে রয়েছে দুটি ডেস্ট্রয়ার—‘ইউএসএস মাহান’ এবং ‘ইউএসএস উইনস্টন এস চার্চিল’। সামরিক অভিযান সংক্রান্ত সংবেদনশীলতা বিবেচনায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি জাহাজটির লন্ড্রিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজে থাকা প্রায় ৬০০ নৌসেনার আবাসন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেরামত কাজ শেষ করে এটি এক মাসের বেশি সময় পর আবার সক্রিয় মোতায়েন অবস্থায় ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘতম মোতায়েনের রেকর্ডও ভেঙেছে এই রণতরি।
এর ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের সামুদ্রিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। এখন সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে। অন্যটি হলো আরব সাগরে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’।
এছাড়া আরও একটি রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ এই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। বর্তমানে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে একাধিক রণতরি মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এই যুদ্ধজাহাজগুলোর উপস্থিতি এমন এক সময়ে বাড়ানো হলো, যখন অঞ্চলটিতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ ও তেল পরিবহনের রুটগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিমানবাহী রণতরি হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে উন্নত রাডার ব্যবস্থা, দ্রুত বিমান উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা এটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ