পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) উপজেলার গুলি আউলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ক্যাম্পে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
ডিসট্রেসড চিলড্রেন এন্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল (ডিসিআই) এবং রাইটস এন্ড সাইট ফর চিলড্রেন (আরএসসি) যৌথভাবে এই ক্যাম্পের আয়োজন করে। বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ট্রাস্ট।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠান দুটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দশমিনা উপজেলায় এ বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। মূলত যেসব মানুষ চোখের ছানি অপারেশন, প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা চশমা কেনার সামর্থ্য রাখেন না, তাদের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে মোট ৬১৮ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষ চক্ষু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। আগত রোগীদের মধ্যে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ৭২ জনকে ছানি রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এছাড়া ৩২৪ জন রোগীকে চশমা ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এর মধ্যে ৩০৫ জন রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। অবশিষ্ট রোগীদের আগামী ২৭ এপ্রিল আরএসসি’র কালাইয়া অফিস থেকে চশমা সরবরাহ করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
এছাড়া ক্যাম্পে আগত ৩৮৪ জন রোগীকে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। শনাক্ত হওয়া ছানি রোগীদের জন্য ১৮ এপ্রিল বরিশালের ইস্পাহানী আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চিকিৎসা ক্যাম্পটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
ডিসিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ডা. এহসান হক বলেন, এই চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করা। তিনি আরও বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যারা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন, তাদের পাশে দাঁড়ানোই তাদের সংগঠনের অন্যতম অঙ্গীকার।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে তারা সহজেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন, যা অন্যথায় অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।