অনলাইন ডেস্ক:
সোমালিয়া থেকে পৃথক হতে চাওয়া সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের দূত নিয়োগের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশসহ ১২টি মুসলিম দেশ। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।
নিন্দা জানানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, সোমালিয়া, সুদান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও কুয়েত। শনিবার এসব দেশের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
ইসরায়েল-এর এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, সোমালিল্যান্ডে দূত নিয়োগের উদ্যোগ সরাসরি সোমালিয়া-এর সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাত হানে। দেশগুলো মনে করে, এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের দূত নিয়োগ সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।” তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা বিভাজনমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সংবিধানের মৌলিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা সকল রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের পদক্ষেপ সেই নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন এবং তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোমালিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বাইরে থাকলেও অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে সেখানে কোনো রাষ্ট্রের কূটনৈতিক পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ এখনো এটিকে স্বীকৃতি দেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের দূত নিয়োগের উদ্যোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে অন্য অঞ্চলেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার রাজনীতিতে এই ইস্যু নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: Arab News, Qatar News Agency, Al Arabiya, Jordan News
আকাশজমিন / আরআর