ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সিইউএফএল, কাফকোর পর এবার বন্ধ ডিএপি সার কারখানা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 

অ্যামোনিয়া গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানায় মজুত অ্যামোনিয়া সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে গ্যাস সরবরাহ না আসায় ধীরে ধীরে মজুত শেষ হয়ে যায়। ফলে বর্তমানে উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই দীর্ঘদিন ধরে ডিএপি কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হতো। ফলে তাদের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর ডিএপি কারখানাটিও কাঁচামাল সংকটে পড়ে যায়।

ডিএপি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, “গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুত দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। এখন সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন ও মৌসুমি ফসল চাষে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই সার কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া এই কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ টন হলেও বর্তমানে তা ৬০০ থেকে ৭০০ টনের মধ্যে সীমিত রয়েছে।

এর আগে সিইউএফএল ও কাফকোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ডিএপি কারখানাটি সচল ছিল এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন করে আসছিল। কিন্তু অ্যামোনিয়া সংকট তীব্র হওয়ায় এবার সেটিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া কৃষি খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে সার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বাজারে দামের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সার উৎপাদন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই সংকট সমাধানে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর   


এ সম্পর্কিত আরো খবর