ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

সিইউএফএল, কাফকোর পর এবার বন্ধ ডিএপি সার কারখানা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 

অ্যামোনিয়া গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানায় মজুত অ্যামোনিয়া সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে গ্যাস সরবরাহ না আসায় ধীরে ধীরে মজুত শেষ হয়ে যায়। ফলে বর্তমানে উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই দীর্ঘদিন ধরে ডিএপি কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হতো। ফলে তাদের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর ডিএপি কারখানাটিও কাঁচামাল সংকটে পড়ে যায়।

ডিএপি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, “গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুত দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। এখন সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন ও মৌসুমি ফসল চাষে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই সার কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া এই কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ টন হলেও বর্তমানে তা ৬০০ থেকে ৭০০ টনের মধ্যে সীমিত রয়েছে।

এর আগে সিইউএফএল ও কাফকোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ডিএপি কারখানাটি সচল ছিল এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন করে আসছিল। কিন্তু অ্যামোনিয়া সংকট তীব্র হওয়ায় এবার সেটিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া কৃষি খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে সার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বাজারে দামের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সার উৎপাদন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই সংকট সমাধানে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর   


এ সম্পর্কিত আরো খবর