ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

সিইউএফএল, কাফকোর পর এবার বন্ধ ডিএপি সার কারখানা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 

অ্যামোনিয়া গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানায় মজুত অ্যামোনিয়া সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে গ্যাস সরবরাহ না আসায় ধীরে ধীরে মজুত শেষ হয়ে যায়। ফলে বর্তমানে উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই দীর্ঘদিন ধরে ডিএপি কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হতো। ফলে তাদের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর ডিএপি কারখানাটিও কাঁচামাল সংকটে পড়ে যায়।

ডিএপি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, “গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুত দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। এখন সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন ও মৌসুমি ফসল চাষে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই সার কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া এই কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ টন হলেও বর্তমানে তা ৬০০ থেকে ৭০০ টনের মধ্যে সীমিত রয়েছে।

এর আগে সিইউএফএল ও কাফকোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ডিএপি কারখানাটি সচল ছিল এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন করে আসছিল। কিন্তু অ্যামোনিয়া সংকট তীব্র হওয়ায় এবার সেটিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া কৃষি খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে সার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বাজারে দামের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সার উৎপাদন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই সংকট সমাধানে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর   


এ সম্পর্কিত আরো খবর