ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

গ্রিসে পাঠানোর নামে প্রতারণা, লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:০৪ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দুই যুবককে গ্রিসে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর লিবিয়ায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পর অবশেষে তারা প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। ঘটনাটি তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে।

ভুক্তভোগী মো. শিহাব উদ্দিন (পেঙ্গুয়ারি গ্রাম) ও মো. হাবিবুর রহমান (বিনসাড়া গ্রাম) অভিযুক্ত আদম বেপারী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার পুত্রবধূ মোছা. জলি খাতুনের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রিসে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুন। পরে দুই দফায় মোট ২৬ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মার্চ ঢাকার বিমানবন্দর থেকে তাদের লিবিয়ার বেনগাজিতে পাঠানো হয়।

লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তাদের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৪০ জনের সঙ্গে একটি ছোট কক্ষে আটকে রাখা হয়। প্রায় ২০ দিন ধরে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হয়নি, ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।

একপর্যায়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিয়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিস্থিতির চাপে পরিবারের সদস্যরা হুন্ডির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭ লাখ টাকা পাঠান। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে লিবিয়ায় অবস্থানরত জলি খাতুনের এক আত্মীয়ের সহায়তায় আরও ১ লাখ টাকা খরচ করে তারা দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেন। দীর্ঘ দুর্ভোগের পর গত ৫ এপ্রিল তারা দেশে ফিরে আসেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিহাব উদ্দিন গত ১২ এপ্রিল তাড়াশ থানায় মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মোছা. জলি খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান

অভিযুক্ত জলি খাতুন মোবাইল ফোনে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন, সরাসরি গ্রিসে পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় প্রথমে লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ায় তারা দেশে ফিরে এসেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়রা জানান, বিদেশে কাজের লোভ দেখিয়ে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। সচেতন মহল মনে করছে, বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা জরুরি, যাতে এমন প্রতারণার শিকার না হতে হয়।

আকাশজমিন / আরআর   


এ সম্পর্কিত আরো খবর