আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন—এই তিনটি রাজনৈতিক দল, প্ল্যাটফর্ম ও সংগঠনের মোট ৪৪ জন নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
রবিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যোগদানকারীদের নাম পড়ে শোনান এবং তাদের দলে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী তরুণদের নিয়ে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট বা ব্রডার অ্যালায়েন্স গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপিতে যোগদানের ক্ষেত্রে কারও সাবেক রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়। তাঁর ভাষায়, “ছাত্রদল হোক, ছাত্রশিবির হোক, ছাত্র অধিকার পরিষদ, এমনকি ছাত্রলীগ হোক—তাঁদের সাবেক পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য নয়। তবে কোনো ফ্যাসিবাদে অংশগ্রহণকারী, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, গণহত্যাকে সমর্থনকারী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, সন্ত্রাসী—এ ধরনের কেউ কখনোই এনসিপিতে আসতে বা থাকতে পারবে না।”
তিনি আরও জানান, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক রাজনৈতিক কর্মী ও সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রতি সপ্তাহেই এ ধরনের যোগদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আপ বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও ধাপে ধাপে এনসিপিতে যুক্ত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম যোগ দেওয়া ৪৪ জনের নাম ঘোষণা করেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আপ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া একজন এবি পার্টির এবং কয়েকজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রয়েছেন। এনসিপিতে যোগ দেওয়া এসব নেতাকর্মীর দায়িত্ব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে যোগ দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম এবং দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন।
আপ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগ দিয়েছেন সংগঠনের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত এবং মুখপাত্র শাহরীন ইরা। তাদের মধ্যে আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
এছাড়া আরও যাঁরা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আয়মান রাহাত, হাসান তানভীর, তানভীর আহম্মেদ কল্লোল, এস এম সুইট, ওয়াহিদ আলম, জাহিদুর রহমান, মো. জসীম উদ্দীন, মো. মোশারফ হোসেন, সুলতান মারুফ তালহা, তৌফিক মাহমুদ, ফারহানা শারমিন সূচি, সাজ্জাদ সাব্বির, মো. রায়হানুল ইসলাম, আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, আহমেদ করিম চৌধুরী, দিলারা খানম, কাজী সালমান, সোয়েব হাসান রায়ান, মো. সোয়েব হাসান, মুরাদ হোসেন, আবু সাঈদ মোহাম্মদ নোমান, ফায়াজ শাহেদ, মো. ইমাম উদ্দিন রিয়াদ, মোস্তফা কামাল মাহাথির, আরাফাত-ই-রাব্বি প্রিন্স, কাজী আহনাফ তাহমীদ, মো. শামীম, বদরে আলম শাহীন, মো. নাজমুল হক, মাসুমা বিল্লাহ সাবিহা, ফারজানা আক্তার, তাওহীদুল ইসলাম (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), রাকিবুল ইসলাম (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), সাদাফ মুহতাসিম প্রান্তিক (নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়), মহিউদ্দিন হাসান, মো. নুরুল হাসান ও আল মাহমুদ।
যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এনসিপির নেতারা। এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, যাঁরা আজ যুক্ত হয়েছেন, তাঁরা আলাদা আলাদা প্ল্যাটফর্মে কাজ করলেও একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, “আজকে যাঁরা যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা আমাদের থেকে খুবই আলাদা ছিলেন—এ রকম নয়। ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করলেও সবাই একই লক্ষ্যে কাজ করেছেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, যেভাবে গণরায় অস্বীকার করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে দেশ জর্জরিত হচ্ছে, সেখানে একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের নিয়ে একটি বৃহত্তর জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। যারা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না থেকেও একসঙ্গে কাজ করতে চান, তাদেরও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। অনুষ্ঠানে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর