রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন আকাশের বাড়ি ও গাড়ির গ্যারেজে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা রামদা, ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, এসএস পাইপ ও চাকুসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারা হঠাৎ করে শাহাদাত হোসেন আকাশের বসতবাড়ি ও গাড়ির গ্যারেজে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় গ্যারেজে থাকা যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়।
হামলার সময় সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন আকাশ (২৬), তার প্রতিবেশী সামিউল হোসেন (১৯), রফিক মিয়া (২২) এবং তার বড় বোন আলেয়া আক্তার (৩৫)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা তাদের গ্যারেজে থাকা ১০টি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিসি ক্যামেরা, গাড়ির ব্যাটারি এবং নগদ অর্থসহ প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারটি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত আলেয়া আক্তার বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ১১ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচ এম সালাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন আকাশের বাড়িতে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় এমন সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হতে পারে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।