আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আতাহার সিকদার (৭৫) ও সোহেল খাঁন (৩০) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এ মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহত আতাহার সিকদারের বাড়ি আমতলী উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে এবং সোহেল খাঁনের বাড়ি তালতলী উপজেলার দক্ষিণ কড়াইবাড়িয়া গ্রামে। দুটি ঘটনাই স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে আতাহার সিকদার রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, বৈদ্যুতিক খুঁটির একটি তার ছিঁড়ে সড়কের ওপর পড়ে আছে। জনসাধারণের চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি সেটি সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অসতর্কভাবে তারটি স্পর্শ করতেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
অন্যদিকে একই দিন সকাল ৯টার দিকে তালতলী উপজেলার দক্ষিণ কড়াইবাড়িয়া গ্রামে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ওই গ্রামের আজিজ খাঁনের ছেলে সোহেল খাঁন রান্নাঘরের একটি বৈদ্যুতিক তারে হাত দিলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার বাবা আজিজ খাঁন। তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান সোহেল খাঁনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আজিজ খাঁনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, বাবা ও ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। এর মধ্যে ছেলে সোহেল খাঁন মারা গেছেন এবং বাবার চিকিৎসা চলছে।
আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত আতাহার সিকদারকে পরিবারের পক্ষ থেকে দাফন করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামাঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও খোলা তার প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ তার অপসারণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক লাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশজমিন / আরআর