আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। ইরানি পতাকাবাহী একটি জাহাজ জব্দের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়, যা চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবকে আরও গভীর করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ আটক ও জব্দ করেছে বলে দাবি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই এশিয়ার বাজারে সোমবার সকালে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। একই সময় ইরান ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালি আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সীমিত করা হয়েছে এবং ওই জলপথে প্রবেশ করা যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছে যায়। একই সময় ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।
এর আগে ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের চাপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের জাহাজটি নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল, তাই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, জাহাজটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এর ভেতরের মালামাল যাচাই করা হচ্ছে। ইরান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং ‘সামুদ্রিক আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিমান চলাচল এবং অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ তাদের বড় অংশের জ্বালানি আমদানি এই প্রণালি দিয়েই আসে। ফলে অনেক দেশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কর্মঘণ্টা কমানো এবং জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে এখন নজর হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির দিকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা শান্ত না হলে জ্বালানি বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর