ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আশায় কমলো তেলের দাম


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:০৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারেও কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যা সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর বাজারে নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কমার আভাস মিলছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে আগ্রহী হয়ে ওঠায় তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।

এর আগে সোমবার আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। একদিনেই প্রায় ৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে, যা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। তবে পরদিনই পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন সম্ভাব্য আলোচনার খবর সামনে আসে এবং বিনিয়োগকারীরা আবারও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৯৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) মে মাসের সরবরাহের দর ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই দরপতন বাজারে স্বস্তির বার্তা দিলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনো অনেকটাই নির্ভর করছে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছিলেন। এমনকি অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে।

তবে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সেই আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি হলে বাজারে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় যেকোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক অগ্রগতি সরাসরি দামের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

আকাশজমিন / আরআর   



এ সম্পর্কিত আরো খবর