গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে আহসান কম্পোজিট কারখানার শ্রমিকদের কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ দীঘিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সকাল আটটার দিকে বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে এবং কারখানা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে নামে।
কারখানা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুরুতে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করলেও এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এ সময় অফিস কক্ষের দরজা, টেবিল, কয়েকটি কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ভাঙচুর করা হয়। এতে কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকরা তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করার চেষ্টা করা হলেও তারা পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কারখানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-১ এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদ জামান বলেন, শ্রমিকরা সকাল থেকেই ছুটির টাকার দাবিতে আন্দোলন করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহসান কম্পোজিট কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কারখানার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, তাদের ন্যায্য পাওনা না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নামেন। তবে তারা ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
শিল্প এলাকায় এ ধরনের সংঘর্ষ শ্রম পরিবেশ ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা শ্রমিক-মালিক পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
আকাশজমিন / আরআর