ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলার ডিবি (উত্তর) একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। গত ২০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ ফরহাদ হোসেন (৪৩), পিতা: মোঃ মোশারফ হোসেন, মাতা: মোছাঃ ফাতেমা বেগম, সাং: গকুলনগর, থানা: আশুলিয়া, জেলা: ঢাকা এবং মোঃ সোহেল (৪২), পিতা: মৃত গোলাম মোস্তাফা, মাতা: মোছাঃ সাহেরা খাতুন, সাং: কুরগাঁও আমতলা পুরাতন পাড়া, থানা: আশুলিয়া, জেলা: ঢাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা আশুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি (উত্তর) এর একটি চৌকস দল উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে নেশাজাতীয় ইনজেকশন জি-পেথিডিন, যার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা এবং নেশাজাতীয় ইনজেকশন জি-মরফিন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। এছাড়াও মাদক পরিবহন ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি হোন্ডা হর্নেট মোটরসাইকেল, যার আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, জব্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তারা বিভিন্ন এলাকায় এসব নেশাজাতীয় দ্রব্য সরবরাহ করত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা নং-৮৮, তারিখ ২১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) ধারার সারনীর ৮(গ)/৩৮ ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সকলকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।