ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পৃথিবীর ‘নিকৃষ্টতম’: জাতিসংঘ দূত


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৪৬ পিএম

ফ্রানচেসকা আলবানিজ ইসরায়েলের সেনাবাহিনীকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী’ বলে মন্তব্য করেছেন। জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং মানবাধিকারের সব সীমারেখা অতিক্রম করেছে।

একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি সৈন্যদের এক ফিলিস্তিনি শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখার পর তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আলবানিজ লিখেছেন, “আমি যথেষ্ট দেখেছি, তাই সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে বলছি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী।”

আলবানিজ দীর্ঘদিন ধরে গাজা উপত্যকা–এ চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব। সম্প্রতি তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ চালানোর অভিযোগ এনে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে গাজায় চলমান সামরিক অভিযানকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই আলবানিজের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও উসকানিমূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, এ কারণে তিনি সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন। তাঁর মতে, পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক শিশুর মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারির দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটেই আলবানিজের মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জাতিসংঘ–এর এই বিশেষ দূত দ্য গার্ডিয়ান–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর জীবন বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে যে চাপ ও হুমকির মুখোমুখি হচ্ছি, তা একেবারে রোলার কোস্টার রাইডের মতো।”

আলবানিজের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা শুধু রাজনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুমকিও বেড়েছে। এতে তাঁর কাজের পরিবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, অন্যদিকে নিরাপত্তার যুক্তি—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূতের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের এমন বক্তব্য বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।

তবে ইসরায়েল সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের সামরিক অভিযানের পক্ষে নিরাপত্তাজনিত যুক্তি তুলে ধরছে। ফলে এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর


এ সম্পর্কিত আরো খবর