ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

জব্দ জাহাজ ফেরত চায় ইরান, নইলে পাল্টা ব্যবস্থা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৪৮ পিএম

ওমান উপসাগরে জব্দ করা ইরানি পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুসকা’ দ্রুত ফেরত দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে জাহাজটির নাবিক, ক্রু এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরান একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘অপরাধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটি আটকের ঘটনা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং উত্তেজনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায় সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

ঘটনাটি ঘটে গত রোববার, যখন ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করে ‘তুসকা’। এ সময় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় এবং পরে সেটি জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র–এর নৌবাহিনী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশিত সামরিক ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করছে। পরে একটি হেলিকপ্টার থেকে মেরিন সেনারা দড়ি বেয়ে জাহাজে অবতরণ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে আরও জানায়, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ব্যবস্থাকেও অস্থিতিশীল করে তুলছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা সব দেশের দায়িত্ব, এবং এই ধরনের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ তা লঙ্ঘন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ইরান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করবে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এ ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর