ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

লেবানন থেকে সেনা সরাতে ইসরায়েলকে ম্যাক্রোঁর আহ্বান


  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:০০ এএম

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লেবানন-ইসরায়েল পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তিনি লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-কে নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন। তার এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের প্রস্তাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ম্যাক্রোঁ লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এবং দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চলমান সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে ফ্রান্স প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে মানবিক সংকট মোকাবিলা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তায় ফ্রান্স সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো একটি রাজনৈতিক সমঝোতা। তার মতে, এই সমঝোতা এমন হতে হবে, যা উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা বজায় রাখবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সংগঠনটিকে রাষ্ট্রের বিকল্প সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি লেবাননের ভেতরে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

একইসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকেও সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। তিনি মনে করেন, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং লেবাননের পুনর্গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন।

বর্তমানে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং নতুন সামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা তৈরির উদ্যোগ এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতিকে দুর্বল করে তুলতে পারে এবং যে কোনো সময় নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ম্যাক্রোঁর এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে। তবে বাস্তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পারস্পরিক সমঝোতার ওপর।

সব মিলিয়ে, লেবানন-ইসরায়েল উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পরিস্থিতি শান্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয় এবং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।

সূত্র: আল জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর