ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট পাকিস্তান, আশা শান্তিচুক্তির


  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:২৩ এএম

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের পরপরই তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের পক্ষ থেকেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর যে অনুরোধ করা হয়েছিল, তা গ্রহণ করায় ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

শাহবাজ শরিফ তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ফলে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, চলমান সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে পাকিস্তান তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তাঁর মতে, সংঘাত নিরসনে সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলবে এবং উত্তেজনা আরও না বাড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে। তিনি বিশেষভাবে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার আলোচনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে একটি বিস্তৃত শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

শাহবাজ শরিফ বলেন, “আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবে এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় একটি ব্যাপক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে পাকিস্তান কেবল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। বিভিন্ন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে। ফলে আলোচনার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে উভয় পক্ষের নমনীয়তার ওপর।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনা সফল হলে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা জোরদার করবে। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও স্বস্তি ফিরতে পারে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা কার্যকরভাবে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির দিকে এগোতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর