যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ এবং সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘায়েই বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য পরবর্তী দফা সংলাপে অংশ নিতে ইরানি প্রতিনিধিরা যাবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, “আমরা এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ইসলামাবাদে প্রথম দফার সংলাপকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছিলাম এবং আমাদের প্রতিনিধিরা সদিচ্ছা নিয়েই সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে এমন একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের বৈঠক করতে হয়েছে, যাদের সদিচ্ছা নেই এবং সংলাপের গুরুত্ব বোঝার সক্ষমতাও নেই।”
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, আগের বৈঠকে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন করে সংলাপে বসার বিষয়ে তেহরান সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে। এই উত্তেজনার জেরে গত ২৮ তারিখ থেকে ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টানা প্রায় ৪০ দিন সংঘাত চলার পর ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার তিন দিন পর, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ প্রথম দফার সংলাপে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার একদিন আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য এর মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টি—এই দুই কৌশল একসঙ্গে প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিজেদের কৌশল নির্ধারণে সময় নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার সংলাপ আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কিনা। ইরানের অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি, গাল্ফ নিউজ
আকাশজমিন / আরআর