ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সারের ডিলার কমিশন বাড়লেও কৃষকের কেনা দাম একই থাকছে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'যাচাই না করা' সংবাদে সাংবাদিকদের হতে পারে ১০ বছরের জেল সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পরই ভোটের তারিখ চূড়ান্ত: ইসি সচিব খোঁজ পেলেই ৭ দণ্ডপ্রাপ্তকে গ্রেপ্তার করে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক করা খুবই খারাপ: তথ্য উপদেষ্টা জুলাই গণহত্যায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম

ইসলামাবাদ বৈঠকের আগেই ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের


  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৩৭ পিএম

ইসলামাবাদ-এ সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকের ঠিক আগে ইরান-এর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই মাস ধরে চলমান সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ পদক্ষেপে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ এক ঘোষণায় জানায়, ইরানের অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগে মোট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং চলমান সংঘাতে চাপ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচিতে সহায়তাকারী নেটওয়ার্কগুলোকে বিচ্ছিন্ন করাই এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম উদ্দেশ্য।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ বা অর্থনৈতিক চাপ কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির মাধ্যমে ইরানকে আলোচনায় আরও নমনীয় অবস্থানে আনাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আর্থিক উৎস বন্ধ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এখনো বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি।

বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তেহরান মনে করছে, এই অবস্থায় আলোচনায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক নাও হতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে তিনি রাজি আছেন। দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

যদিও এর আগে তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতিনিধিরা একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, ইসলামাবাদের সম্ভাব্য বৈঠক শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় কিনা এবং তা দুই দেশের চলমান উত্তেজনা কমাতে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে কিনা।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর