আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওমান উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এতে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা ব্রিজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
ইউকেএমটিও জানায়, ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর–পূর্বে অবস্থানকালে জাহাজটির কাছে আইআরজিসির একটি নৌকা এগিয়ে আসে। এরপর একটি গানবোট থেকে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। হামলার ফলে জাহাজটির কার্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষতি হয় এবং পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট জাহাজটিকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু জাহাজটি সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলতে থাকে। তাই “সমুদ্র আইন” অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
হামলার ঘটনাটি হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় ঘটেছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও বাণিজ্য পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চল দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করা হতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর ও বাণিজ্য পথের ওপর যে অবরোধ আরোপ করেছে, তা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। একই সঙ্গে এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ “নিয়ম ভঙ্গ করে” চলাচল করলে তা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বিবেচনায়, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
আকাশজমিন / আরআর