ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

স্যালমন মাছের শুক্রাণু ও পাখির মল—নতুন স্কিনকেয়ার ট্রেন্ডে শঙ্কা


  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৫৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন অদ্ভুত ও বিতর্কিত নানা স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে স্যালমন মাছের শুক্রাণু থেকে নেওয়া উপাদান ব্যবহার করে ত্বকের চিকিৎসা এবং পাখির মল দিয়ে ফেস মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা। তবে এসব পদ্ধতি সত্যিই কার্যকর কি না, নাকি শুধুই ভাইরাল ট্রেন্ড—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ক্লিনিকে স্যালমন মাছের জিনগত উপাদান ত্বকের ভেতরের স্তরে ইনজেকশন আকারে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য সরাসরি সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়; বরং ত্বকের কোষ পুনর্গঠন ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করা।

গবেষণায় কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্যালমন-উৎপন্ন উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে, বলিরেখা কমাতে এবং ত্বক মসৃণ করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দাবির পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও কিছু অস্বাভাবিক সৌন্দর্যচর্চার ট্রেন্ড আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পাখির মল ব্যবহার করে ফেস মাস্ক তৈরি করা এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্ত ব্যবহার করে ফেসিয়াল থেরাপি। এসব ট্রেন্ড মূলত ভাইরাল কনটেন্ট ও তারকাদের প্রভাবের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চিকিৎসক ও ত্বক বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ট্রেন্ড নিয়ে সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁদের মতে, সব অদ্ভুত বা ভাইরাল স্কিনকেয়ার পদ্ধতি নিরাপদ নয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উপাদান পরিশোধিত হলেও তা সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে এবং ভুল ব্যবহারে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ইতিহাসে কিছু প্রাচীন সৌন্দর্যচর্চা রয়েছে যেগুলোর উপকারিতা আধুনিক গবেষণায় আংশিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে সেগুলোর বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও বর্তমান ট্রেন্ডিং পদ্ধতির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

স্যালমন উপাদান ব্যবহার করে কিছু থেরাপিতে ত্বকের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে গবেষকরা বলছেন, এর ফলাফল ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং নিশ্চিত কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে একে এখনই স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌন্দর্য রক্ষায় সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়া। এর মধ্যে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা, মানসম্মত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করা অন্যতম।

তাই যতই নতুন নতুন ট্রেন্ড সামনে আসুক না কেন, সৌন্দর্যচর্চায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিজ্ঞানসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর