ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

স্যালমন মাছের শুক্রাণু ও পাখির মল—নতুন স্কিনকেয়ার ট্রেন্ডে শঙ্কা


  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৫৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন অদ্ভুত ও বিতর্কিত নানা স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে স্যালমন মাছের শুক্রাণু থেকে নেওয়া উপাদান ব্যবহার করে ত্বকের চিকিৎসা এবং পাখির মল দিয়ে ফেস মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা। তবে এসব পদ্ধতি সত্যিই কার্যকর কি না, নাকি শুধুই ভাইরাল ট্রেন্ড—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ক্লিনিকে স্যালমন মাছের জিনগত উপাদান ত্বকের ভেতরের স্তরে ইনজেকশন আকারে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য সরাসরি সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়; বরং ত্বকের কোষ পুনর্গঠন ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করা।

গবেষণায় কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্যালমন-উৎপন্ন উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে, বলিরেখা কমাতে এবং ত্বক মসৃণ করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দাবির পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও কিছু অস্বাভাবিক সৌন্দর্যচর্চার ট্রেন্ড আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পাখির মল ব্যবহার করে ফেস মাস্ক তৈরি করা এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্ত ব্যবহার করে ফেসিয়াল থেরাপি। এসব ট্রেন্ড মূলত ভাইরাল কনটেন্ট ও তারকাদের প্রভাবের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চিকিৎসক ও ত্বক বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ট্রেন্ড নিয়ে সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁদের মতে, সব অদ্ভুত বা ভাইরাল স্কিনকেয়ার পদ্ধতি নিরাপদ নয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উপাদান পরিশোধিত হলেও তা সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে এবং ভুল ব্যবহারে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ইতিহাসে কিছু প্রাচীন সৌন্দর্যচর্চা রয়েছে যেগুলোর উপকারিতা আধুনিক গবেষণায় আংশিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে সেগুলোর বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও বর্তমান ট্রেন্ডিং পদ্ধতির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

স্যালমন উপাদান ব্যবহার করে কিছু থেরাপিতে ত্বকের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে গবেষকরা বলছেন, এর ফলাফল ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং নিশ্চিত কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে একে এখনই স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌন্দর্য রক্ষায় সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়া। এর মধ্যে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা, মানসম্মত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করা অন্যতম।

তাই যতই নতুন নতুন ট্রেন্ড সামনে আসুক না কেন, সৌন্দর্যচর্চায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিজ্ঞানসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর