আজ ২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। পৃথিবীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছর এই দিনটি বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। এবারের দিনে আবারও জোরালোভাবে উঠে এসেছে পৃথিবীর স্বাস্থ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, বন উজাড় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার দিন দিন পৃথিবীকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতি রক্ষা করা মানে মানবজাতির ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা।
বিশ্ব ধরিত্রী দিবসের সূচনা হয় ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশ আন্দোলনের মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে এটি একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশ এই দিবসটি পালন করে। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ এই দিনে একত্র হয়ে পরিবেশ সুরক্ষার আহ্বান জানায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দিবসটি শুধু সচেতনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নীতি পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
২০২৬ সালের বিশ্ব ধরিত্রী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আমাদের শক্তি, আমাদের পৃথিবী’। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে পৃথিবী রক্ষায় ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবারই সমান দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রসার, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় পর্যায়ে সবুজ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ঘন ঘন তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। হিমবাহ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এসব পরিবর্তন শুধু প্রকৃতিকে নয়, মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিকেও সরাসরি প্রভাবিত করছে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোথাও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কোথাও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সচেতনতা কার্যক্রম, আবার কোথাও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়। অনেক শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে নতুন প্রকল্প চালু করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যাতে তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট পরিবর্তনও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা এবং বেশি বেশি গাছ লাগানো। এগুলো নিয়মিত চর্চা করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ হবে। তারা মনে করেন, প্রযুক্তি ও সচেতনতার সমন্বয়ই পারে পৃথিবীকে একটি বাসযোগ্য ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে।
সব মিলিয়ে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস শুধু একটি দিন নয়, বরং এটি একটি বার্তা—পৃথিবীকে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আজকের এই দিনে প্রতিটি মানুষের উচিত অন্তত একটি পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করা, যাতে আগামী প্রজন্ম একটি নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী পেতে পারে।
আকাশজমিন / আরআর