ইসরায়েলপন্থী মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেন্টিনা গোমেজ-কে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কট্টর মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে উগ্র ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন-এর একটি সমাবেশে যোগ দিতে লন্ডনে আসার কথা ছিল গোমেজের। প্রাথমিকভাবে তাকে ভ্রমণের জন্য ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) বা বিশেষ অনুমতি দেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয় ব্রিটিশ সরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোমেজের উপস্থিতি ‘জনস্বার্থের জন্য সহায়ক হবে না’। তার আগমনের খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সমালোচকরা অভিযোগ করেন, ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কখনো কখনো দ্বিমুখী হয়ে থাকে। গোমেজকে প্রথমে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে বিস্ময়কর ছিল বলেও মন্তব্য করা হয়।
গোমেজ দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের প্রচারণার সময় তিনি পবিত্র কোরআন পুড়িয়ে বিতর্কের জন্ম দেন এবং ইসলামকে ‘চিরতরে থামিয়ে দেওয়া’ উচিত বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া তিনি মুসলমানদের সম্পর্কে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে একাধিকবার সমালোচিত হয়েছেন।
তার যুক্তরাজ্য সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠনও আপত্তি জানিয়েছে। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন এবং মুসলিম উইমেন’স নেটওয়ার্ক ইউকে যৌথভাবে গোমেজের প্রবেশ ঠেকানোর দাবি জানায়। তারা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ-এর কাছে অভিযোগ করে জানায়, গোমেজকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলে তা ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষকে উৎসাহিত করবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিকে সম্প্রতি গোমেজ ইসরায়েল সফর করেন এবং গাজায় দেশটির সামরিক অভিযানের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। একটি ভিডিওতে তাকে হামলার দৃশ্য দেখতে দেখতে উল্লাস করতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
ইসরায়েলি সংসদ সদস্য ওহাদ তাল তার ভূমিকার প্রশংসা করে গোমেজকে ‘একজন সত্যিকারের যোদ্ধা ও প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে সমালোচকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘৃণা ও বিভাজনকে আরও উসকে দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত মূলত সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি দেখায় যে জনমতের চাপে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেও প্রস্তুত।
বর্তমানে গোমেজের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না, তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটরৃ
আকাশজমিন / আরআর