ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আমুরকাটা-চৌরাস্তা সড়ক: উন্নয়নের ছোঁয়া নেই, দুর্ভোগ চরমে


  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৮:১৫ পিএম

উন্নয়নের স্লোগান যত জোরে উচ্চারিত হয়, বাস্তবের এই নির্মম চিত্র ততই প্রশ্ন তোলে—কাদের জন্য সেই উন্নয়ন? খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থেকে আজ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি যাত্রা মানেই অনিশ্চয়তা, প্রতিটি পদক্ষেপ মানেই ঝুঁকি। মানুষ এখানে শুধু চলাচল করে না—প্রতিদিন নিজের জীবনকে বাজি রেখে পথ পাড়ি দেয়।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আমুরকাটা বাজার থেকে চৌরাস্তা অভিমুখী এই সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র নির্ভরতার পথ। একসময় যে সড়ক ছিল স্বস্তি ও যোগাযোগের প্রতীক, আজ তা ভাঙাচোরা, ক্ষতবিক্ষত ও বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়ক এখন প্রতিনিয়ত মানুষের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

এই সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়, বরং পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দৈনন্দিন সব ধরনের কার্যক্রমে যাতায়াতের প্রধান ভরসার পথ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই সড়ক এখন ভাঙা ইটের সলিংয়ে এলোমেলো ও বিপজ্জনক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। কোথাও ইট উঠে গেছে, কোথাও আবার উঁচু-নিচু হয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অস্থায়ীভাবে ইটের সলিং করে দায়সারা উন্নয়ন করা হলেও তা টেকসই হয়নি। ফলে এখন এই সড়কে ভ্যান, ইজিবাইক ও নসিমন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে এই পথ এখন আর স্বস্তির নয়, বরং এক ধরনের অনিশ্চিত যাত্রাপথে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্যানচালক আব্দুল করিম বলেন, “এই রাস্তায় চলতে গেলে মনে হয় জীবন হাতে নিয়ে বের হই। গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়, আয়ও কমে গেছে।” ইজিবাইক চালক সোহেল গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিশ্রুতি শুধু শুনি, কাজ দেখি না। ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খোঁজ নেয় না।”

গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “অসুস্থ মানুষ নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া ভয়ংকর। কখন কী হয়ে যায়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।” স্থানীয়দের দাবি, এখন আর অস্থায়ী ইটের সলিং নয়—এই সড়ককে টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে পাকা সড়কে রূপান্তর করতে হবে।

পীযূষ কান্তি মন্ডল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ৫নং সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদ বলেন, “আমুরকাটা বাজার থেকে চৌরাস্তা অভিমুখী সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ আমরা উপলব্ধি করছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে। বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজটি বাস্তবায়ন করা হবে।”

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কতদিন এই কষ্টের বোঝা বয়ে বেড়াবে মানুষ? কতদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবহেলায় পড়ে থেকে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে? উন্নয়নের আলো যদি এই পথ ছুঁতে না পারে, তবে সেই উন্নয়নের অর্থই বা কী?


এ সম্পর্কিত আরো খবর