আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অতীতেও একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন—এমন তথ্য জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তিনি বলেন, আগের তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
পার্সটুডে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় টকশো The Late Show with Stephen Colbert-এ অংশ নিয়ে জন কেরি এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওবামা না বলেছিলেন, বুশ না বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনও না বলেছিলেন। আমি সেইসব আলোচনার অংশ ছিলাম।”
কেরি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরা—বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং জো বাইডেন—ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে রাজি হননি। কারণ, তাদের মতে তখনও কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব পথ শেষ হয়ে যায়নি।
সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, যুদ্ধ একটি অত্যন্ত গুরুতর সিদ্ধান্ত এবং তা নেওয়ার আগে সব ধরনের বিকল্প যাচাই করা জরুরি। তিনি মনে করেন, অতীতের যুদ্ধগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছে, যা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
কেরি বিশেষভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং ইরাক যুদ্ধ-এর উদাহরণ টেনে বলেন, এই দুই যুদ্ধ থেকে একটি সাধারণ শিক্ষা হলো—জনগণের কাছে সত্য গোপন করা উচিত নয়। তিনি বলেন, একজন ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞ সৈনিক হিসেবে তিনি জানেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “ভিয়েতনামের একজন যোদ্ধা হিসেবে বলছি, যেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল—সেখানে আমাদের কাছে যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে মিথ্যা বলা হয়েছিল। ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের শিক্ষা হলো, মার্কিন জনগণের কাছে মিথ্যা বলবেন না, তারপর তাদের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠাতে বলবেন না।”
জন কেরির এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ জন কেরির বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে দাবি করেছে, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। তবে পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলো সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল সাম্প্রতিক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো যেখানে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।