আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের প্রভাব ক্রমেই বৈশ্বিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। এবার সেই প্রভাব পড়তে যাচ্ছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর বাজারেও। বিশ্বের শীর্ষ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী উৎপাদক মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান কারেক্স সতর্ক করে জানিয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে কনডমের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী গোহ মিয়াহ কিয়াত মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বৈশ্বিক পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবং শিপিং বিলম্বের কারণে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক গ্রাহকের কাছে স্বাভাবিকের তুলনায় কম মজুত থাকায় কনডমের চাহিদাও হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, পরিবহন খরচ বেড়েছে—ফলে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত খরচ চাপানো ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।”
কারেক্স বছরে ৫০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে থাকে। তারা ডিউরেক্স ও ট্রোজানের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের এনএইচএস এবং জাতিসংঘ পরিচালিত বিভিন্ন বৈশ্বিক সহায়তা কর্মসূচিতে কনডম সরবরাহ করে।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিন্থেটিক রাবার, নাইট্রাইল, প্যাকেজিং উপকরণ, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং সিলিকন তেলের দাম বেড়ে গেছে, যা সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গোহ মিয়াহ কিয়াত জানান, বর্তমানে কারেক্সের হাতে কয়েক মাসের কাঁচামাল মজুত রয়েছে এবং তারা বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএআইডির ব্যয় কমানোর কারণে গত বছর থেকেই বৈশ্বিক কনডমের মজুত কমে গেছে। এর প্রভাব এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে কনডমের চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, শিপিং জটিলতার কারণে সরবরাহ সময়ও বেড়ে গেছে। আগে যেখানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছাতে প্রায় এক মাস সময় লাগত, বর্তমানে তা দুই মাস পর্যন্ত সময় নিচ্ছে।
তিনি বলেন, “অনেক চালান এখনও সমুদ্রে আটকে আছে এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। অথচ বাজারে চাহিদা অত্যন্ত বেশি, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর বাজারে চাপ আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়তে পারে।