আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার (২৬ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে বলে ইসরায়েলকে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে।
ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কান (কেএএন) বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা তেল আবিবকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হবে।
ইস্তাম্বুল থেকে তারেক শুইরেফের পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প অনির্দিষ্টকাল ধরে আলোচনার পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে চান। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রোববারের মধ্যে বড় কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা খুবই কম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি কাজ করছে। তাদের দাবি, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট থেকেই জানতে পারছেন।
বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে জানান, এই যুদ্ধবিরতি তিন থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, পুরো বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট এবং তা সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি শর্ত দেন, তেহরানকে একটি ‘একীভূত প্রস্তাব’ উপস্থাপন করতে হবে এবং সেটি না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক শান্তি বজায় থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর তেহরানও ইসরায়েল এবং মার্কিন সম্পদ রয়েছে এমন আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই আলোচনায় স্থায়ী সমাধান আসেনি।
বর্তমানে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি চললেও অনিশ্চয়তা কাটছে না। কূটনৈতিক মহলে ধারণা, রোববারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যদি ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে।
একই সঙ্গে পাকিস্তান আবারও আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালালেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আস্থার সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সময়সীমা নির্ধারণকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি রোববারের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে। ইতিমধ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নজরদারি ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মুখে তারা কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নেবে না। তেহরানের অবস্থান হলো, তাদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রত্যাহার ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কূটনৈতিক সংলাপের ধারাবাহিকতা। কারণ সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এখন পুরো বিশ্বের নজর রোববারের দিকে, যখন এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। এরপরই বোঝা যাবে, পরিস্থিতি শান্তির পথে এগোবে নাকি নতুন সংঘাতের দিকে ধাবিত হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি