আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পরোক্ষভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। তার মতে, এই সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্র ইউরোপের স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতির বরাতে এএফপি জানায়, এরদোয়ান ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ কোনোভাবেই শুধু আঞ্চলিক ইস্যু নয়। এর প্রভাব ইউরোপের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণে বাড়বে এবং ইউরোপও তার বাইরে থাকতে পারবে না।
তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনই কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজাই একমাত্র কার্যকর পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আঙ্কারা শুরু থেকেই এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। এরদোয়ানের মতে, চলমান সংঘাত ইউরোপে জ্বালানি সংকট এবং শরণার্থী প্রবাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশকে চাপে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করছে, যার প্রভাব সরাসরি ইউরোপের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে পড়ছে। তাই অবিলম্বে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি।
জার্মান প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তুরস্কের এমন সতর্কবার্তা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
বিশেষ করে ইউরোপ যখন মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, তখন নতুন এই যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও বড় চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এরদোয়ান আরও জানান, তুরস্ক পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান