আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও জাতীয় সংবাদ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় ওই অঞ্চলে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের আত-তিরি গ্রামে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে প্রথমে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা দুইজন নিহত হন। পরে একই এলাকায় আরেকটি ভবনে পৃথক হামলা চালানো হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা যে দুটি গাড়িতে হামলা চালিয়েছে, সেগুলো লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত একটি সামরিক স্থাপনা থেকে বের হয়েছিল। তবে এই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে আত-তিরি গ্রামের একটি ভবনে বিমান হামলায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল আখবার-এর সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটির কর্তৃপক্ষ।
আল জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পেট জানান, আমাল খলিল এবং তার সহকর্মী জয়নব ফারাজ ঘটনাস্থলে হামলার খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। হামলার সময় ভবন ধসে পড়লে তারা আটকা পড়েন।
স্থানীয় উদ্ধারকারী দল জানায়, হামলার কারণে দীর্ঘ সময় তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে সাংবাদিক আমাল খলিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপর সাংবাদিক জয়নব ফারাজকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, সাংবাদিকরা যে ভবনে অবস্থান করছিলেন, সেটিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের পথেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অংশ। এই হামলার সম্পূর্ণ দায় ইসরায়েলের ওপর বর্তায়।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং তাদের মতে, লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো। একই সঙ্গে উদ্ধার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছে তারা।
এই ঘটনার পর দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংবাদিকদের মৃত্যু সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের হামলা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।