ইরান ও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে দেওয়া বিশেষ ছাড় আর বাড়ানো হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর দেওয়া সময়সীমাবদ্ধ ছাড়ের মেয়াদ নবায়নের কোনো সুযোগ নেই। বার্তা সংস্থা এপি ও আল-জাজিরার খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে।
স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানিদের জন্য কোনো ছাড় নেই। আমাদের অবরোধ কার্যকর রয়েছে এবং ইরানের বন্দর থেকে কোনো তেল বের হচ্ছে না।’ তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ইরানের জন্যই নয়, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপরও প্রভাব ফেলবে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর আগে থেকেই বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এখন সেই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি খাতে ছাড় বাতিল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র আগে সীমিত পরিসরে কিছু ক্ষেত্রে সমুদ্রপথে থাকা ইরানি ও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দিয়েছিল। বিশেষ করে যেসব চালান ইতোমধ্যে সমুদ্রে ছিল বা প্রক্রিয়াধীন ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই ছাড় কার্যকর ছিল। তবে এখন সেই নীতিতে পরিবর্তন এনে সম্পূর্ণভাবে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এর প্রভাব বেশি অনুভব করতে পারে।
ইরানের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দেশটির অর্থনীতির বড় একটি অংশ তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের কারণে আগে থেকেই ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত ছিল। এখন নতুন করে ছাড় বাতিল হলে সেই চাপ আরও বাড়বে।
রাশিয়ার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম জটিল হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বিকল্প বাজার খুঁজে নিচ্ছিল। কিন্তু নতুন করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, কূটনীতি এবং অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, এপি