যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান এমন একটি প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি প্রস্তাব নিয়ে আসছে এবং সেটি কেমন হয়, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে প্রস্তাবের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তার ভাষায়, “তারা একটি প্রস্তাব দিচ্ছে এবং আমাদের দেখতে হবে সেটি কেমন হয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইতোমধ্যে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছেছে এবং মার্কিন প্রতিনিধিরাও ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। এই দুই বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র বর্তমানে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আলোচনার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
শুক্রবার এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরানের কার সঙ্গে আলোচনা করছে। এর উত্তরে তিনি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, “আমি সেটা বলতে চাই না, তবে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে, আমরা তাদের সঙ্গেই আলোচনা করছি।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে বিষয়টি গোপন রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সম্ভাব্য প্রস্তাব যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আলোচনার সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে উভয় পক্ষের নমনীয়তা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে এবং পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এতে করে সরাসরি সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই নতুন প্রস্তাব এবং আলোচনার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত হয় এবং তা ওয়াশিংটনের শর্ত পূরণ করতে পারে কি না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স