মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন বিশ্বের কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। তিনি বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ এখন ধীরে ধীরে বৈশ্বিক পর্যায়ে বিস্তৃত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে এর প্রভাব পড়ছে।
গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “আমাদের অবরোধের পরিধি বাড়ছে এবং এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামনে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি “ভালো চুক্তিতে” পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এখনই কোনো ধরনের চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় এবং তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।
হেগসেথ জানান, ইরানকে অবশ্যই অর্থবহ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে সরে আসতে হবে। তিনি বলেন, যদি তেহরান আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে চাপ আরও বাড়ানো হবে।
এদিকে মার্কিন শীর্ষ জেনারেল ড্যান কেইন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের সব বন্দরে কঠোর নজরদারি ও অবরোধ বজায় রেখেছে। তার দাবি অনুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত ৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও ইরানি জাহাজের চলাচলের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
ড্যান কেইন বলেন, যেসব জাহাজ ইরানের দিকে যাচ্ছে বা সেখান থেকে বের হচ্ছে, সেগুলোর ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে এসব জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেও এই অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এই নৌ-অবরোধ শুরু করে। এর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি এবং আশপাশের সমুদ্রপথে উত্তেজনা বেড়েছে। হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর চেষ্টা করে, সেটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের ছোট ও দ্রুতগামী সশস্ত্র নৌযানগুলোর “দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ” আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে একই সময়ে রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শিগগিরই শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি, তবে তিনটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঘিরে এই ধরনের অবরোধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
এ কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে, যেখানে একদিকে অবরোধ কৌশল এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা—দুই দিকই একসঙ্গে সামনে আসছে।