পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় একটি নৌযানে থাকা অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের হামলাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে নৌযানটিতে থাকা দুইজন নিহত হন। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত অভিযান ছিল, যার লক্ষ্য ছিল মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি নৌযানকে নিষ্ক্রিয় করা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নৌযানটি একটি নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এটি মাদক পাচারের রুট ব্যবহার করে চলাচল করছিল। তবে ওই সংগঠনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্যও জানানো হয়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অভিযানে তাদের কোনো সদস্য আহত হয়নি। হামলার পর প্রকাশিত ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে পানিতে ভাসমান একটি নৌযানে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এর আগে গত কয়েক সপ্তাহেও একই অঞ্চলে একাধিক নৌযানে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব নৌযান মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং তারা সংগঠিত অপরাধচক্রের অংশ।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের সামরিক অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। মাদক চোরাচালান দমনের নামে চালানো এসব হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে এটি নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী অভিযান, অন্যদিকে সমালোচকরা এটিকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্দেহভাজন নৌযান শনাক্ত হওয়ার পর প্রমাণ যাচাই ছাড়াই সরাসরি হামলা চালানো হচ্ছে। এতে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি ও মানবাধিকার ইমেজের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনা দুটোই বাড়ছে। তবে ওয়াশিংটন বলছে, মাদক পাচার রোধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।