ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

দুই দশক পর গাজায় ভোটের আনন্দে মেতেছে সাধারণ মানুষ


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১:১০ পিএম

গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ বিরতির পর স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ায় এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রায় দুই দশক পর প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন অবরুদ্ধ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে সীমিত আকারে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি প্রায় ২০ বছরের মধ্যে গাজায় প্রথম স্থানীয় নির্বাচনী অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহ শহরকে প্রতীকীভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতার দাবি আরও জোরালো করা সম্ভব হবে। ২০০৭ সালে হামাস গাজা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অবরোধ ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাসরত মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এটি তাদের জন্য একটি নতুন আশা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

দেইর আল-বালাহ শহরের বাসিন্দা আদহাম আল-বারদিনি বলেন, “জন্মের পর থেকেই আমি নির্বাচন সম্পর্কে শুনে আসছি। আমরা অংশ নিতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতা পরিবর্তন সম্ভব হবে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের পর গাজায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইসরায়েল গাজা ও পশ্চিম তীরে সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও রাজনৈতিক সমাধানের অগ্রগতি খুবই ধীর।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই স্থায়ী সমাধান। বর্তমানে পশ্চিম তীরে সীমিত স্বশাসনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, এই স্থানীয় নির্বাচন ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের পথ খুলে দিতে পারে এবং শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, এই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

এবারের নির্বাচন গাজায় প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের পর প্রথম রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ পশ্চিম তীরে চার বছর আগে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেইর আল-বালাহ শহরের বিভিন্ন ভবনে প্রার্থীদের তালিকা সংবলিত ব্যানার ঝুলছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কিছু ভোটকেন্দ্র তাঁবুতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসন ভোটগ্রহণের সময়সীমাও কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজার অন্যান্য এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ভোট আয়োজন সম্ভব হয়নি। গাজার প্রায় অর্ধেক অঞ্চল ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি অংশ হামাসের শাসনে রয়েছে।

এদিকে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচন বর্জন করেছে। তাদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণে চাপ দিচ্ছে, যার মধ্যে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।

প্রায় দুই দশক ধরে গাজা শাসন করা হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী দেয়নি। তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কিছু তালিকা হামাস-সমর্থিত হতে পারে। হামাস জানিয়েছে, তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে।

নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিভিল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৭০ হাজারসহ মোট ১০ লাখেরও বেশি ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য।

প্রাথমিক ফলাফল শনিবার রাতের মধ্যে বা রবিবার ঘোষণা করা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর