ইরান সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ (৩৪৪ মিলিয়ন) ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ককে দুর্বল করতে এবং তাদের অর্থ স্থানান্তর ও তহবিল সংগ্রহের সক্ষমতা ভেঙে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে। তিনি আরও জানান, ইরান সংশ্লিষ্ট একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেট চিহ্নিত করে সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানিয়েছেন যে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান, মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এখন প্রচলিত আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা ও ডিজিটাল সম্পদ—দুই পথই কঠোরভাবে নজরদারিতে রেখেছে, যাতে কোনোভাবেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ লেনদেন করা না যায়।
মার্কিন অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা যায়। তাদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার ইরানের মতো দেশগুলোর জন্য নতুনভাবে অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করেছে, যা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে তাদের আঞ্চলিক নীতি ও সামরিক অবস্থানকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ইরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। তেহরানের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায্য বাণিজ্যনীতির পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো বিকেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এখন নতুন এক বাস্তবতার দিকে যাচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল লেনদেনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে এই ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দের ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ