বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)–২০২৬ এর উপজেলা পর্যায়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, বিএনপি সরকার দেশের প্রতিটি শিশুকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম প্রধান উপায়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারাদেশে ক্রীড়া উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের মধ্যেও বিপুল প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে, যা সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে জাতীয় পর্যায়ে বিকশিত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিশুদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতা থেকেই জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে শরীর সুস্থ থাকে এবং মন প্রফুল্ল থাকে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পরপরই মাঠে টুর্নামেন্টের খেলাগুলো শুরু হয় এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
টুর্নামেন্টে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালক ও বালিকা দল অংশগ্রহণ করছে। আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াচেতনা গড়ে তোলা এবং তাদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে বলেও তারা জানান।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দলগত কাজের মানসিকতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এতে করে নতুন প্রজন্ম একটি সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে।