নড়াইল শহরের বরাশুলা চিত্রা সেতু এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক নারী ও তার শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানকে নিয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী একটি ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই ওই নারী ও তার শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার আগে অজ্ঞাত ওই নারীকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তিনি স্থানীয়দের কাছে বারবার জানতে চাইছিলেন ট্রেন কখন আসবে। একপর্যায়ে তিনি চিত্রা সেতু রেল ব্রিজের ওপর উঠে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বরাশুলা এলাকার সাব্বির হোসেনসহ কয়েকজন জানান, তারা ওই নারীকে কিছুক্ষণ আগে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখেন। পরে হঠাৎ তিনি রেললাইনের দিকে চলে যান এবং ট্রেন আসার সময় রেললাইনের ওপর অবস্থান নেন। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনে কাটা পড়ে ওই নারী ও তার শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, একজন মা ও শিশুর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মরদেহ শনাক্তের জন্য চেষ্টা চলছে এবং স্থানীয় থানায় অজ্ঞাত হিসেবে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, “অজ্ঞাত ওই নারী এবং তার দুই বছরের শিশু সন্তানের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য আশপাশের থানাগুলোতেও তথ্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা রোধে রেললাইন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সমস্যা নিরসনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।