আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আকাশপথে দীর্ঘ ভ্রমণের ধকলের কারণেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নির্ধারিত সফর বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মূলত ভ্রমণের দীর্ঘ সময় ও শারীরিক ক্লান্তি বিবেচনায় রেখে। গতকাল শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য এত দীর্ঘ সফরের প্রয়োজন নেই। বরং ভবিষ্যতে এই ধরনের আলোচনা টেলিফোনে সম্পন্ন করাই বেশি কার্যকর হবে। তাঁর মতে, বারবার দীর্ঘ সময়ের বিমানযাত্রা করে সরাসরি বৈঠকে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, বিশেষ করে যখন যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই আলোচনা করা সম্ভব।
ফ্লোরিডায় এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “একটি লিখিত প্রস্তাব বা আলোচনার জন্য আমরা বারবার ১৫ ঘণ্টা বিমান ভ্রমণ করতে পারি না। এটি কার্যকর কোনো সমাধান নয়। তাই এখন থেকে আমরা টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করব। তারা চাইলে যেকোনো সময় আমাদের ফোন করতে পারে।”
তিনি আরও জানান, টেলিফোনে আলোচনা দুই পক্ষের জন্যই সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হবে। এর আগে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য তাঁর বিশেষ দূত এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফরের কথা ছিল, যা পরে বাতিল করা হয়।
ট্রাম্প বলেন, শুধু ভ্রমণের ক্লান্তিই নয়, বরং ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর আগের কিছু সংশয়ও এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দাবি, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা রয়েছে, যা সরাসরি আলোচনার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
এদিকে সফর বাতিলের এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে টেলিফোন কূটনীতির ওপর নির্ভরতা ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথে পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিগত অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে প্রশাসনের কৌশল নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্র: সিএনএন