হরমুজ প্রণালি আবার চালু করা এবং চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলছে। সর্বশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের নতুন পথ খুঁজতে চাইছে তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছানো হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এবং আরও দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রণালিটি পুনরায় চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, ইরান তার প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি বা সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা পরমাণু আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে ইরান প্রথমে সামরিক উত্তেজনা কমাতে চাইছে এবং পরে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনো ধরনের অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই প্রস্তাবকে একদিকে যেমন উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়, অন্যদিকে এটি একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অংশও হতে পারে। কারণ, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই প্রস্তাবকে সতর্ক আশাবাদের সঙ্গে দেখছে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স