ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেল’ ও ‘আলটিমেটাম’ নীতির পথ থেকে সরে আসতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিযুক্ত রাশিয়ার দূত Mikhail Ulyanov। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চাপ প্রয়োগ করে আলোচনায় অগ্রগতি আনার কৌশল ইরানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X–এ দেওয়া এক পোস্টে মিখাইল আলইয়ানভ এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার কৌশল নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করেন এবং তা পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
পোস্টে আলইয়ানভ লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি, কঠোর নিষেধাজ্ঞার ভয় এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আসছে। তাঁর মতে, এই পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও ইরানের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয় এবং বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনায় সফল হতে হলে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে এগোতে হবে। চাপ প্রয়োগ বা একতরফা শর্ত চাপিয়ে দিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বরং এতে আস্থা সংকট তৈরি হয় এবং আলোচনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মিখাইল আলইয়ানভ তাঁর পোস্টে তিনটি নির্দিষ্ট কৌশলের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেন। হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে তিনি ‘ব্ল্যাকমেলিং’, ‘আলটিমেটাম’ এবং ‘ডেডলাইন’—এই তিনটি পদ্ধতি পরিহার করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের কৌশল কূটনৈতিক সম্পর্ককে দুর্বল করে এবং আলোচনার পথ সংকুচিত করে ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই অবস্থান মূলত ইরানের প্রতি তাদের সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলের বিরুদ্ধে একটি বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ধরনের মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা—এসব বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছে। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার পথ খোলা রাখা আন্তর্জাতিক মহলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়ার দূতের এই মন্তব্যকে অনেকেই কূটনৈতিক সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখছেন। এটি একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ভিন্নধর্মী পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বাস্তব পদক্ষেপের ওপর।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা