ইরানের জলসীমা ঘিরে চলমান নৌ-অবরোধে ৩৮টি জাহাজকে ফিরে যেতে বা গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা CENTCOM সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X–এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
পোস্টে সেন্টকম জানায়, অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়া বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়। পরে ৩৮টি জাহাজ নির্দেশ মেনে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে বা কাছাকাছি বন্দরে ফিরে যায়। এই পদক্ষেপকে তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের জলসীমায় জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো জাহাজকে ইরানের বন্দরে প্রবেশ করতে বা সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এ বিষয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, এই অবরোধ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি বজায় রাখা প্রয়োজন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সামরিক সংঘাত কিছুটা কমলেও চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে সরে আসছে না যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের মতে, নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে তেল রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে ইরানের জন্য সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, এই অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও এই অবরোধ কতদিন চলবে এবং এর প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা